ছবি: সংগৃহীত

একসময় টিউশনি করে পড়াশোনার খরচ চালাতেন সাকাদাউন সিয়াম ও তার ছোট ভাই সাদমান সাদাব। তবে গত কয়েক মাস ধরে টিউশনিও বন্ধ করে দিয়েছিলেন তারা। এরইমধ্যে হঠাৎ করেই রাজধানীর গুলশানে আওয়ামী লীগের এক সাবেক সংসদ সদস্যের বাসায় চাঁদাবাজির অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় হতবাক হয়ে পড়েছেন রাজশাহীর স্থানীয় বাসিন্দারা।দুই ভাই বর্তমানে রাজধানীর প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী। আদি বাড়ি নাটোরের গোপালপুর হলেও তারা রাজশাহীতে বসবাস করেন। তাদের বাবা এসএম কবিরুজ্জামান একটি গ্যাস ফিলিং স্টেশনে চাকরি করেন এবং পরিবার নিয়ে কেচুয়াতৈল এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন।গুলশানে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তারগত শনিবার (২৬ জুলাই) রাতে গুলশান থানায় দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়, রাজধানীর গুলশানে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের বাসায় গিয়ে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন পাঁচজন। এর আগে তারা ১০ লাখ টাকা নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। পরে বাকি টাকা তুলতে গেলে শাম্মী আহমেদ পুলিশে খবর দিলে তাদের আটক করা হয়।গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান জানান, “গ্রেপ্তারকৃতরা নিজেদেরকে সমন্বয়ক পরিচয়ে পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজির চেষ্টা করছিলেন।”গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজনের মধ্যে রয়েছেন—সাকাদাউন সিয়াম, সাদমান সাদাব, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঢাকা মহানগর শাখার আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন মুন্না, গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের সদস্য আবদুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান ও আরেকজন অজ্ঞাতনামা।বাবার কষ্টের রোজগারে চলে সংসারসিয়াম ও সাদাবের বাবা এসএম কবিরুজ্জামান বলেন, “আমি বিশ্বাস করতে পারছি না—আমার ছেলে চাঁদাবাজির মতো জঘন্য অপরাধে জড়িত হতে পারে। ওরা নিয়মিত নামাজ পড়ে, দাঁড়ি রাখে, সাদাসিধে জীবনযাপন করে। এটা মেনে নেওয়া অসম্ভব।”তিনি জানান, সামান্য বেতনের চাকরিতে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয় তাকে। তার বেশিরভাগ আয় বাসা ভাড়াতেই শেষ হয়ে যায়। দুই ছেলের পড়াশোনার খরচ চালানোই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।রাজনীতি ও গ্রেফতারের পরিণতিস্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টিউশন বন্ধ করে দেওয়ার পর সিয়াম ও সাদাব রাজনীতিতে সক্রিয় হন। তারা ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের’ ঢাকা মহানগর শাখার সদস্য ছিলেন। চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর সংগঠনটি তাদের বহিষ্কার করেছে।বাকি তিনজন—ইব্রাহিম হোসেন মুন্না, আবদুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান এবং এক অজ্ঞাত সদস্য—এদেরও সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জানা যায়, সিয়াম ও সাদাবের সঙ্গে রাজ্জাকের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং ফেসবুকে তাদের একাধিক ছবি রয়েছে।স্কুল শিক্ষকদের প্রতিক্রিয়াদুই ভাই রাজশাহীর খড়খড়ি উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও এইচএসসি সম্পন্ন করেছেন। ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোবাশ্বের আলী বলেন, “সিয়াম ও সাদাব তো আমাদের স্কুলের ছাত্র ছিল। ওরা খুবই ভদ্র ও মেধাবী ছিল। এমন ঘটনায় জড়াবে, ভাবতেই পারছি না।”রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে চারজনকেচাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার পাঁচজনের মধ্যে চারজনের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বর্তমানে মামলার তদন্ত চলছে।