উত্তরার বিমান দুর্ঘটনায় দগ্ধ মাকিনের জন্য বার্ন ইনস্টিটিউটের সামনে কাঁদছেন মা সালেহা বেগম

ঢাকা, ২২ জুলাই ২০২৫ —
“প্রয়োজন হলে আমার প্রাণ নাও আল্লাহ, কিন্তু আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দাও।”
এই হৃদয়বিদারক আর্তনাদ করে কাঁদছিলেন মা সালেহা বেগম, যখন তার ছোট ছেলে মাকিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছিল বার্ন ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সামনে মঙ্গলবার দুপুরে দেখা যায়, কান্নায় চোখের পানি শুকিয়ে গেছেন সালেহা বেগম। দুই হাত তুলে প্রার্থনায় নিজেকে সঁপে দিয়েছেন তিনি, তিনজন নারী আত্মীয় তার পাশে দাঁড়িয়ে তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও, থামছিল না তার বুকফাটা কান্না।

স্কুল থেকে না ফেরার গল্প

সালেহা বেগমের ছোট ছেলে আব্দুল মোসাব্বির মাকিন (১৩) উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। সোমবার দুপুরে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় স্কুল ভবনের দোতলায় থাকা অবস্থায় গুরুতর দগ্ধ হয় সে। তার শরীরের ৬৮ শতাংশ পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা।

সালেহা বেগম বলেন, “ছুটির ঘণ্টা বাজার পরেও মাকিন বের হচ্ছিল না। আমি ভাবলাম হয়তো বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করছে। হঠাৎ বিকট শব্দে তাকিয়ে দেখি একটি বিমান স্কুলের উপর ভেঙে পড়েছে। আমি নিজ চোখে দেখেছি, মাকিন আগুনের ভিতরে আটকা পড়ে আছে। আমি কিছু করতে পারিনি।”

অন্তহীন কষ্টের গল্প এক মায়ের ছেলের অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “ওর শরীর পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে। ছেলেটা কষ্ট পাচ্ছে, আমি আর সহ্য করতে পারছি না। যদি প্রয়োজন হয়, আল্লাহ আমার প্রাণটা নিয়ে নাও—কিন্তু আমার ছেলেটাকে সুস্থ করে দাও।”

মাকিনের পরিবার ও ভবিষ্যৎ

মাকিন গাজীপুরের টঙ্গী থানার বোর্ড বাজার এলাকায় পরিবারসহ থাকতেন। তার বড় ভাই আব্দুল মোমিন মাহাদি একই স্কুলে এইচএসসি পরীক্ষার্থী। মাকিনের মামাতো ভাই মাহি হায়দার দুর্জয় জানান, মাকিন অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিল এবং পরিবারের সবার খুব প্রিয়।

দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট

সোমবার দুপুর ১টা ১৮ মিনিটে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান উত্তরা দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নিজস্ব ক্যাম্পাসে বিধ্বস্ত হয়। বিমানটি স্কুল ভবনের দোতলায় আঘাত হানে। এখন পর্যন্ত দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩১ জন, যার অধিকাংশই শিশু শিক্ষার্থী।